৭ মে ২০২৬ - ১৬:২০
আরব আমিরাতের ভূখণ্ড থেকে হামলা হলে ধ্বংসাত্মক ও অনুতাপজনক জবাব দেওয়া হবে

ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হলে তার জবাবে “ধ্বংসাত্মক ও অনুতাপজনক” প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): এই ঘোষনা ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র খাতামুল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর থেকে দেয়া হয়, যখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সামরিক কমান্ডের এক মুখপাত্র বলেন, “আমিরাতের মাটি থেকে ইরানের দ্বীপ, বন্দর বা উপকূল লক্ষ্য করে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে আমরা ধ্বংসাত্মক ও অনুতাপজনক জবাব দেব।”

তিনি ইউএই তথা আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক দাবিগুলো স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান আমিরাতের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

মুখপাত্র বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এমন কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি,” এবং তিনি আমিরাতের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি আরও বলেছেন, “যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতো, আমরা তা নিশ্চিতভাবে ও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতাম। ওই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা পুরোপুরি অসত্য।”

বিবৃতিতে বলা হয়, ইউএই এখন ইরানের প্রতিপক্ষদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের জন্য একটি উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

মুখপাত্র আরও বলেন, “আপনাদের প্রচারণা এবং ইসলামি জাতি ও ইরানের শত্রুদের সহায়তার মুখে আমরা এখন পর্যন্ত যে সংযম দেখিয়েছি, তা কেবল নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সেই দেশের আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের কথা বিবেচনা করেই।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এই সংযমেরও সীমা আছে।

এই বিবৃতি প্রকাশের কিছুক্ষণ পর প্রেস টিভি জানায়, ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে।

নতুন ব্যবস্থার অধীনে, প্রণালী অতিক্রম করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে info@PGSA.ir ঠিকানা থেকে একটি ইমেইল পাঠানো হবে, যেখানে যাতায়াতের নিয়মাবলি উল্লেখ থাকবে।

জাহাজগুলোকে এই কাঠামো অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের আগে অনুমতি নিতে হবে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী হরমুজ প্রণালী কঠোর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জাহাজকে অবরুদ্ধ করেছে।

সম্প্রতি উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যখন রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙার লক্ষ্যে একটি অভিযান শুরু করে। ইরানি বাহিনী বারবার মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে এই কৌশলগত জলপথের কাছাকাছি না আসতে সতর্ক করেছে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha