২৮ আগস্ট ২০২৫ - ২২:৩২
গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক ভোটার বিশ্বাস করেন, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছ।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): বুধবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।



জরিপে দেখা গেছে, গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে বলে বিশ্বাস করেন এমন মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৫১ শতাংশ দলীয় মতাদর্শকেন্দ্রিক নয়।

জরিপ অনুসারে, ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের একটি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ - ৬৪ শতাংশ মনে করেন না, ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। তবে দলটির ২০ শতাংশ ভোটার মনে করেন গণহত্যা চলছে।

জরিপ অনুসারে, প্রতি ১০ জন মার্কিন ভোটারের মধ্যে ছয়জন ইসরায়েলে ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধিতা করেছেন।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মার্কিন ভোটারদের নিয়ে কুইনিপিয়াকের চালানো জরিপের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা, যারা মনে করেন গণহত্যা চলছে।

জরিপ অনুসারে, ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলিদের প্রতি সহানুভূতির দিক থেকে ভোটাররা প্রায় সমানভাবে বিভক্ত। ৩৭ শতাংশ বলেছেনম তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল এবং ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা ইসরায়েলিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল।

২০০১ সালের ডিসেম্বরে কুইনিপিয়াক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা শুরু করার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশকারী আমেরিকানদের সংখ্যা এবারই সবচেয়ে বেশি। ইসরায়েলিদের প্রতি সহানুভূতির সংখ্যা সবচেয়ে কম।

কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ বিশ্লেষক টিম ম্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, 'ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক তহবিলের প্রতি আগ্রহ তীব্রভাবে হ্রাস পাচ্ছে।'

কুইনিপিয়াক সবশেষ জরিপের জন্য ১২২০ জন নিবন্ধিত ভোটারকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো গাজায় গণহত্যা চালানোর বিরুদ্ধে কথা বলেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে দেড় লাখের বেশি বেশি মানুষ আহত হয়েছে। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর ২৭ মে থেকে ইসরায়েল জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে একটি পৃথক সাহায্য বিতরণ উদ্যোগ শুরু করেছে। এতে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ত্রাণ সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসরায়েলি বাহিনী খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে।

গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উপত্যকাজুড়ে যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha